বেলে পাথরের মন্দির বাংলাদেশে কয়েকটি রয়েছে

বাংলাদেশে মাত্র গোটা কয়েক বেলে পাথরের মন্দির রয়েছে। শুনেছি, সমগ্র ভারত উপমহাদেশে বেলে পাথরের মন্দিরের সংখ্যা মাত্র ১৩ টি। এই তেরোটি মন্দিরের মাঝে  বাংলাদেশেই এযাবৎ অন্তত পাঁচটি বেলে পাথরের মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো যথাক্রমে মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি ময়মনসিংহে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ির সম্মুখের মাঠে, গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর তুলশী লাহিড়ী জমিদার বাড়িতে, নড়াইলের জমিদার বাড়িতে ও ফরিদপুরের বোয়ালমারীর খরসূতি গ্রামে ঈশান চন্দ্র ঘোষের বাড়িতে অবস্থিত।


বাংলাদেশ এর বেলে পাথরের মন্দির গুলি হল :-

মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি ময়মনসিংহে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ির সম্মুখের মাঠে

গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর তুলশী লাহিড়ী জমিদার বাড়িতে

নড়াইলের জমিদার বাড়িতে ও ফরিদপুরের বোয়ালমারীর খরসূতি গ্রামে ঈশান চন্দ্র ঘোষের বাড়িতে

বোয়ালমারীর খরসূতি গ্রামে




উল্লেখিত মন্দিরগুলোর নির্মাণ ধরন প্রায় একই কিন্তু বোয়ালমারীর খরসূতি গ্রামে অবস্থিত মন্দিরটি আকারে বড়, এটির বেদি অপর মন্দির গুলোর  চেয়ে অনেক উঁচু এবং একমাত্র এই মন্দিরটিরই রয়েছে দুটি প্রবেশদ্বার সহ নান্দনিক দুটি ব্যালকনি যুক্ত বারান্দা। অন্য মন্দির গুলির দরজা সংখ্যা এক। সেই সুবাদে ফরিদপুর-বাসি এই অনন্য বৈশিষ্ট যুক্ত স্থাপত্যটি নিয়ে গর্ব করতে পারে। 



বোয়ালমারীর এই মন্দিরটির নির্মাণ কাল অজানা। তবে সম ঘরানার অন্যান্য স্থাপনার কথা বিবেচনা করে ধারণা করা হয় যে এটি বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে খরসূতির বিশিষ্ট জ্ঞান তাপস, সাহিত্যিক বাবু ঈশান চন্দ্র ঘোষ কর্তৃক নির্মিত। মন্দিরটি ঈশান বাবুর বাড়ির সম্মুখেই অবস্থিত। যে সময়ে এই মন্দির নির্মিত সেই সময়ে এই অঞ্চলে বেলে পাথর আনয়ন করা হতো ভারতের রাজস্থান থেকে। সুদূর রাজস্থান থেকে বেলে পাথর পরিবহন, নির্মাণ সহজ সাধ্য ছিল না। 



ঈশান বাবু খরসূতির মন্দিরটিতে শিব লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু মুক্তি যুদ্ধের সময় শিব লিঙ্গটি মন্দির থেকে চুরি হয়ে যায়। তারপর থেকে এটিতে পূজা অর্চনা বন্ধ। বর্তমানে লোহার বেরিয়ার তৈরি করে মন্দিরে প্রবেশ বন্ধ করা আছে। তবে সেই বেড়া মন্দিরের নির্মাণ সৌন্দর্য অবলোকনে কোনও বাধা সৃষ্টি করে না। মন্দিরের দক্ষিণ মুখী প্রবেশদ্বার দ্বিস্তরের শেড দ্বারা আচ্ছাদিত। শেড গুলো মন্দিরের গা থেকে ঢালু হয়ে নিচের দিকে ন্যুব্জ। উত্তর দরজায় রয়েছে টানা বারান্দা। এই মন্দিরের দরজা দুটি অসাধারণ কারুকাজ খচিত। দুটি দরজার চারটি কপাটের দুই পাশে পেঁচানো সাপের ডিজাইন খোদিত। উত্তর দরজার দুই কপাটের মধ্য পাশীর উপর বিষ্ণু এর কাঠের মূর্তি খচিত। 



বোয়ালমারীর এই শিব মন্দিরটি একটি অসাধারণ স্থাপত্য সম্পদ। কিন্তু সেই সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণে  সরকারি পদক্ষেপ ধাতব প্রাচীরের মাঝে সীমাবদ্ধ। এটির গুরুত্ব অনুধাবন করে, এটি যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা।

Post a Comment

Previous Post Next Post